IMG-LOGO

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০১৬ পালন

Last Modified: 7 March 2016

তারিখ: ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
স্থান: চিলাহাটি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ,ডোমার,নীলফামারী।
উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থা (ইউএসএস) একশন এইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় ক্যাম্পাস প্রকল্পের মাধ্যমে ২০০৮ সাল থেকে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার ভোগডাবুরী, কেতিকবাড়ি, গোমনাতি ও বামুনিয়া ইউনিয়নে   বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে আসছে। কর্মসূচীর অংশ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য শিশু ,নারী,পুরুষ ও স্থানীয় গণমান্যদের অংশগ্রহনে বিভিন্ন দিবস উদযাপন করে থাকে। দিবস উদযাপনের ধারাবহিকতায় নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০১৬ উদ্যাপন করা হয়।
কর্মসূচীর উদ্দেশ্য:
ক্স    স্থানীয় পর্যাায়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরা
ক্স    স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দিবস উদযাপনে উদ্বুদ্ধ করা এবং মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরা ।
কর্মসূচীর বাজেট:বরাদ্দকৃত বাজেট-১৬০০০ টাকা খরচ=১৬২০২ টাকা
এল আরপি পর্যায়ে ক্রিটিক্যাল পাথওয়ের সাথে লিংকেজ:
 পিআরএস বিবেচনায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষার প্রসার ঘটেছে এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
একশন এইড বাংলাদেশ এর শিক্ষার  অগ্রাধিকার এর আওতায় এই  কাজটি করা হয়েছে ।
অংশগ্রহকারীর সংখ্যা ও ধরণ:
কর্মসূচী    শিশু (০-১৪)    যুব (১৫-৩০)    বয়স্ক (৩১-৬৪)    অতি বয়স্ক (৬৪+)    মোট
     মেয়ে    ছেলে    নারী    পুরুষ    নারী    পুরুষ    নারী    ঈুরুষ    নারী    পুরুষ
র‌্যালী    ২৫০    ১৫০    ৪    ৫    ২    ৩    ০    ০    ২৫৬    ১৫৮
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা    ১৪    ১৪    ০    ০    ০    ০    ০    ০    ১৪    ১৪
রচনা প্রতিযোগিতা    ১৮    ১২    ০    ০    ০    ০    ০    ০    ১৮    ১২
আলোচনা সভা    ৬০     ৫০    ৪    ৫    ৪    ৯ জন            ৬৮    ৬৪
ধারাবহিকতা/অনুষ্ঠানসূচী:
র‌্যালীও পুষ্পমাল্য অর্পন: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস  উদযাপন উপলক্ষ্যে সকাল ৯.০০ ঘটিকায় ইউএসএস- চিলাহাটি  শাখা অফিস থেকে একটি র‌্যালী চিলাহাটি চৌরাস্তা প্রদক্ষিণ করে এবং চিলাহাটি সরকারী কলেজের শহীদ মিনার চত্বরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। র‌্যালীটিতে স্পন্সর শিশুসহ  প্রায় ৪১৪ জন ছেলে ও মেয়ে শিশু অংশগ্রহণ করে।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা: র‌্যালী শেষে চিলাহাটি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের শহীদ মিনার চত্বরে শিশু শ্রেনী থেকে দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়–য়া ২৮ জন স্পন্সর শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে।চিত্রাঙ্কানের বিষয় ছিল ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভাষা আন্দোলন।চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারীদের চিত্রাঙ্কন করার জন্য  খাতা,ইরাজার,সার্পনার পেন্সিল ও রং পেন্সিল প্রদান করা হয়।
 রচনা প্রতিযোগিতা: রচনা প্রতিযোগিতা কলেজের একটি শ্রেনীকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।সেখানে ৩য় শ্রেনী থেকে পঞ্চম শ্রেনী পড়–য়া ৩০ জন  স্পন্র শিশু অংশ্রগহন করে।রচনা প্রতিযোগিতা বিষয়গুলো ছিল নিজের ভাষায় শিক্ষার অধিকার,মানসম্মত শিক্ষায় মাতৃভাষার ভূমিকা ,ভাষা আন্দোলনে শিক্ষার্থীর ভূমিকা ও আমার চোখে অমর  একুশ।রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ্রগহনকারীদের রচনা লেখার জন্য একটি কলমও খাতা প্রদান করা হয় এবং  উভয় প্রতিযোগিতা সকাল ১০.৩০ টার সময় শুরু হয়।
আলোচনা সভা : প্রতিযোগিতা শেষে কলেজের হল রুমে আলোচনা সভা শুরু হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব মো: আজাদুল হক প্রামানিক,অধ্যক্ষ সানমুন কিন্ডার কার্টেন ও আহ্বায়ক, সামাজিক নিরীক্ষা কমিটির । আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব  মো: আইয়ুব আলী, অধ্যক্ষ, চিলাহাটি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মো:মাখদুমুল আলম জুয়েল,সহকারী শিক্ষক,কেতকিবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,জনাবা তাসনীম আক্তার চৌধুরী,সহকারী শিক্ষক, চিলাহাটি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, জনাবা আজমিরা জান্নাত বিথী,সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, চিলাহাটি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ ও জনাব কনক চন্দ্র রায়, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, চিলোহাটি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জনাব মো: কায়কোবাদ হোসেন প্রকল্প সমন্বয়কারী,ইউএসএস,চিলাহাটি শাখা। তিনি স্বগত বক্তব্যে ইউএসএস ও একশন এইড বাংলাদেশের কার্যক্রমের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি জনাব মো: আইয়ুব আলী বলেন যে “ আমি গর্বিত আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আর এই সুযোগটা তৈরি করে দিয়েছে ইউএসএস, আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি শুধু একটা কথাই বলবো আমারা হচ্ছি বাঙালী,আর আমাদের ভাষা হবে বাংলা, আর এই বাংলা ভাষা কেড়ে নেওয়ার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানীরা চেষ্টা করেছিল কিন্তু আামদের দেশের মেধাবী ছাত্ররা তা হতে দেয় নি,তাদেরকে শহীদ হতে হয়েছে ভাষার জন্য, আর তার বিনিময়ে আমরা আমাদের বাংলা ভাষা ফিরে পেয়েছি”
বিশেষ অতিথি জনাব মো: মাখদুমুল আলম জুয়েল বলেন যে“ আমি প্রথমত উদয়াঙ্কুর  সেবা সংস্থাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আজকের এই অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য,আজকের দিনটির যে তাৎপর্য্য বা গুরুত্ব রয়েছে তা আজকের এই আলোচনা সভায় বলা কঠিন তরাপরও বলবো যে আজকের এই  দিনটি একদিনের আন্দোলনে আসে নি,দীর্ঘদিনের সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা আমাদের এই দিনটিকে পেয়েছি, এই দিনটির সাথে আমাদের যেমন কষ্ট জড়িত রয়েছে ঠিক তেমনি আনন্দ রয়েছে, কারন এই দিনটিতে আমরা কয়েকজন মেধাবী  ছাত্রকে হারিয়েছি কিন্তু তার বিনিময়ে আমরা আমাদের প্রাণের ভাষা,মায়ের ভাষা,মাটির ভাষাকে ফিরে পেয়েছি,যে ভাষা পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী আমাদের কাছ থেকে দেশ বিভাজনের পর থেকে কেড়ে নেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল, আর এই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমারা স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছি”
 বিশেষ অতিথি জনাবা আজমিরা জান্নাত বিথী বলেন যে“ আমি আজকে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিচারকের ভূমিকায় ছিলাম,এখানে প্রথম ৫ জনকে নির্বাচন করা আমার জন্য খুবই কষ্টকর ছিল কারন সবাই তাদের অংকনে ভাষা আন্দোন সংগ্রামের ছবি এবং শহীদ মিনারের যে ছবি একেছে তা ছিল খুবই সুন্দর, এসব দেখে আমার ম

নে হয়েছে যে আমাদের শিশুরা ভাষা আন্দোলন ও শহীদ মিনার সম্পর্কে ভালোই জানে, আর আমদের বড়দের দায়িত্ব হলো তাদেরকে বিভিন্ন দিবসের গুরুত্বগুলো তাদের জানানো”।
আলোচনা সভার সভাপতি আজদুল হক প্রামানিক বলেন যে “আমাদের এই এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিবসের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারছে আজকের মতো বিভিন্ন  অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে, আমাদের শিশুরা প্রতিযোগিতায় অংশ্রগহন করে আজকের এই দিবসের গুরুত্ব সম্পর্কে জানাতে পারছে, আমি ইউএসএসও একশন এইড বাংলাদেশকে অনুরোধ জানাবো আমাদের এই শিশুদেরকে নিয়ে এই ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য”। 
পুরুষ্কার বিতরণী :আলোচনা সভা শেষে পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয়।চিত্রাঙ্কন প্রতযোগিতা ও রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম ১০জনের নাম নি¤েœ তুলে ধরা হলো:
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা    রচনা প্রতিযোগিতা
ক্রমিক    ইাম    শ্রেণি    শিশুবিকাশ কেন্দ্রের নাম    ক্রমিক    নাম    শ্রেণি    শিশুবিকাশ কেন্দ্রের নাম
১    মারুফা আক্তার    ২য়    গাচুলকাপাড়া এসবিকে    ১    ফারসী  জামান    পঞ্চম     প্রামনিকপাড়া এসবিকে
২    মো: গালিব হোসেন    ২য়    নয়াহাটপাড়া এসবিকে    ২    ফাতেমা আক্তার    পঞ্চম     নয়াহাটপাড়া এসবিকে
৩    মেহরীন রুমু    ২য়     প্রামনিকপাড়া এসবিকে    ৩    পপি আক্তার    পঞ্চম     নবারপাড়া এসবিকে
৪    সুরভী আক্তার      ২য়    গাচুলকাপাড়া এসবিকে    ৪    ইয়াসমিন আক্তার    পঞ্চম    গাড়িয়ালটারী এসবিকে
৫    তাজমিন আক্তার    ২য়    প্রামনিকপাড়া এসবিকে    ৫    মাহফুজা আক্তার    পঞ্চম    নয়াহাটপাড়া এসবিকে 
প্রথম ১০ জনকে পুরুষ্কার হিসেবে একটি করে ডিকশোনারী প্রদান করা হয় এবং উভয় প্রতিযোগিায় যে সকল শিশু অংশ্রগহন করেছে তাদেরকে একটি করে পেন বক্স প্রদান করা হয়। পুরুষ্কার পেয়ে ফাতেমা আক্তার বলে যে“ আমি যে ডিকশনারীটা পেয়েছি তা আমাকে বিভিন্ন শব্দের মানে খুজতে সহায়তা করবে আমার খুব ভালো লাগছে”।

তাৎক্ষনিক ফলাফলঃ- 
     স্পন্সর শিশুরা শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য জানতে পরেছে ।
    রচনা ও চিত্রঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করার ফলে এই বিষয়ে তাদের পড়াশুনা করার সুযোগ তৈরী হয়েছে ।
    সুধী সমাজ ও অন্যান্য শিশুদের সাথে অভিজ্ঞতা  বিনিময়ের সুযোগ তৈরী ।
কাজটি করার ক্ষেত্রে যে সকল চ্যালেঞ্জ ছিল ঃ- 
      রচনার বিষয়বস্তু শিশুদের নিকট একটু কঠিন ছিল ফলে তারা খুব ভাল করতে পারে নাই । 
     সরকারী কলেজে সমস্যা হওয়ার ফলে ভেন্যু পরিবর্তন করে গার্লস স্কুল এ্যান্ড কলেজ এ অনুষ্ঠান করতে হয় ।
ভবিষ্যৎ এর জন্য সুপারিশ ঃ-
    এই জাতীয় অনুষ্ঠান করার জন্য কমপক্ষে ৩/৪ দিন আগে জানালে ভালভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায় ।
পরিষেশে বলা যায়, উক্ত আলোচনা সভার মাধ্যমে শিশুদের মাঝে একুশের র্ফেরূয়ারীর তাৎপর্য তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে স্পন্সর শিশুদের আত্ববিশ্বাস বেড়েছে । মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করণে মাতৃভাষার ভুমিকার বিষয়টি সকলের নিকট স্পষ্ট হয়েছে।এই জাতীয় কর্মসুচি ভবিস্যতে অব্যাহত রাখার জন্য ইউএসএস এর প্রতি সকলে আহবান রেখেছে ।
 
প্রতিবেদক-
কায়কোবাদ হোসেন
প্রকল্প সমন্বয়কারী, ইউএসএস